ডেমু ট্রেন দুর্নীতি চার কর্মকর্তাকে দুদকে তলব
ডেমু ট্রেন ক্রয় প্রকল্পে অকার্যকর ও বাংলাদেশের রেল অবকাঠামোর জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী ট্রেন কিনে প্রায় ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ ১৭ হাজার টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. তোহিদুল আনোয়ার চৌধুরীসহ সাতজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন প্রকল্প পরিচালক ও সাবেক প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ইফতিখার হোসেন, সাবেক প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. আক্তারুজ্জামান হায়দার, পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক উপসচিব বেনজামিন হেমক্রম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপপ্রধান অঞ্জন কুমার বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব আশরাফুজ্জামান এবং বাস্তবায়ন, নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সাবেক উপপরিচালক মো. মুমিতুর রহমান।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। কোনো ধরনের সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কিংবা বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই না করেই ডেমু ট্রেন ক্রয় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় যেসব ডেমু ট্রেন কেনা হয়েছে, সেগুলো ছিল অকার্যকর, লোকসানি এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান রেল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ট্রেন ক্রয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং অন্যদেরও অবৈধ সুবিধা প্রদান করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের মোট ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ ১৭ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।এদিকে আজ রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চার সাবেক কর্মকর্তাকে আজ দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. তোহিদুল আনোয়ার চৌধুরী কয়েক মাস আগে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে হাজির করা সম্ভব নয়। তবে বাকি তিন কর্মকর্তা—প্রকল্প পরিচালক ও সাবেক প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. ইফতিখার হোসেন, সাবেক প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান হায়দার এবং বাস্তবায়ন, নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সাবেক উপপরিচালক মো. মুমিতুর রহমানকে দুদক কার্যালয়ে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে ডেমু ট্রেন ক্রয় প্রকল্পসংক্রান্ত সমগ্র নথিপত্র, ফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের মাধ্যমে আগামী জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে দুদক কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেল খাতে আলোচিত ডেমু ট্রেন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চললেও এবার সরাসরি মামলা দায়ের ও কর্মকর্তাদের হাজিরার নির্দেশ দেওয়ায় বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এ মামলার মাধ্যমে রেল খাতে সংঘটিত বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে উঠে আসতে পারে।