ডিজির নির্দেশ মানেন না পূর্ব রেলের জিএম ও সিসিএম!
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ট্রেনের যাত্রীরা। নিয়ম অনুযায়ী, রেল চলাচলকে সুরক্ষিত করা, যাত্রী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং নাশকতাসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দায়িত্ব। কিন্তু পূর্বাঞ্চল জিএমের অনিহার কারণে ৮ মাস ধরে ট্রেনে আরএনবি সদস্যদের এস্কর্ট ডিউটি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বেড়েছে বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহণ।
অভিযোগ রয়েছে, আরএনবিকে অক্ষম বাহিনী হিসাবে পরিণত করতে এবং একটি পক্ষকে সুবিধা দিতেই ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালকের (ডিজি) দপ্তর থেকে ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে অনিহা রয়েছে পূর্বাঞ্চল জিএম সুবক্তগীনের।
সূত্র জানায়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলেই ট্রেনে যাত্রী পরিবহণ ঝুঁকিতে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয় সচিবের সভাপতিত্বে যাত্রীর নিরাপত্তা, সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে আরএনবিকে ট্রেনে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ৫ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে রেলভবন।
এতে জানানো হয়, যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ রোধে যাত্রীবাহী ট্রেনে উভয় অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকগণের চাহিদা মোতাবেক আরএনবি সদস্য মোতায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুমতি প্রদান করা হলো। এ নির্দেশনার পর পরই পশ্চিমাঞ্চলে চারটি ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে অদৃশ্য কারণে দুই মাসেও পূর্বাঞ্চল ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রেনের প্রতিটি খাবার গাড়িতে বিনা টিকিটের যাত্রী পরিবহণ করে ক্যাটারিং সার্ভিসের লোকজন। প্রতিটি ট্রেনে ২০-৩০ জন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে তারা। আর তাদের সঙ্গে পূর্বাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক দপ্তরের সংশ্লিষ্টদের সুসম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি দেওয়ার ক্ষেত্রে বরাবরই জিএম’এর মত অনিহা প্রকাশ করে আসছে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম পূর্ব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
কারণ—আরএনবি থাকলে ক্যাটারিং সার্ভিসের লোকজন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও আরএনবির কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধেও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যাত্রী পরিবহণসহ বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে।
তবে ট্রেনে আরএনবির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্রমণ-ভাতা রয়েছে। এস্কর্ট ডিউটি বন্ধ থাকায় এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাহিনীর সদস্যরা। গত ৪ মে ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম আরএনবির চিফ কমান্ড্যান্টকে চিঠি দিলে পরদিন ৫ মে থেকে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরএনবির এক কর্মকর্তা বলেন, আরএনবিকে অক্ষম একটি বাহিনী হিসাবে চিহ্নিত করতে এবং নিষ্ক্রিয় হিসাবে পরিণত করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বাহিনীর নির্দিষ্ট দায়িত্ব অন্যান্য কর্তৃপক্ষ দিয়ে পালন করানো হচ্ছে। এ নিয়ে আরএনবি সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. সুবক্তগীন বলেন, ট্রেন পরিচালনা করে সিসিএম। তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রী চেকিংয়ের সময় আরএনবিকে রাখার জন্য একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেটি কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে চিফ কমান্ড্যান্ট বলতে পারবেন।
তবে পূর্বাঞ্চল আরএনবির চিফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনে আরএনবির এস্কর্ট ডিউটি দেওয়ার বিষয়ে জিএম স্যার একটি মিটিং করবেন বলে জানিয়েছেন। মিটিংয়ে রেলওয়ে পুলিশসহ পূর্বাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। সে মিটিংয়ে এস্কর্ট ডিউটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ট্রেনে আরএনবি দেওয়া হবে।
ট্রেনে আরএনবি সদস্যদের অনিয়ম প্রসঙ্গে চিফ কমান্ড্যান্ট আরও বলেন, শুধুমাত্র ট্রেনে নয়, যে কোনো ক্ষেত্রে বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র—যুগান্তর